গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার লোহাগাছিয়া এলাকার সাধুর বাজার মূলত লালন ভক্তদের কাছে একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে প্রতি বছর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লালন স্মরণোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এখানে সাধুর বাজার এবং এর লালন মেলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
১. অবস্থান ও পরিচয়
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহ্লাদপুর ইউনিয়নে লোহাগাছিয়া গ্রামে ফকির খালেক সাঁইজির আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে এই সাধুর বাজার অবস্থিত। এটি একটি আধ্যাত্মিক সাধনার কেন্দ্র যেখানে সারা বছরই লালন দর্শনের চর্চা হয়।
২. লালন স্মরণোৎসব ও মেলা
২০১৩ সাল থেকে এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে লালন স্মরণোৎসব ও মেলা আয়োজিত হয়ে আসছে। এটি বর্তমানে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লালন উৎসব হিসেবে পরিচিত।
সময়: সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারী থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিন দিনব্যাপী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজন: মেলা উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে বাউল, সাধু ও লালন ভক্তরা এখানে আসেন। দিনব্যাপী চলে 'সাধুসঙ্গ' এবং রাতে চলে লালন সংগীত ও আলোচনা সভা।
পরিবেশ: উৎসবের দিনগুলোতে বাউল গানে এক অন্যরকম আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মেলায় বিভিন্ন লোকজ পণ্য এবং গ্রাম্য খাবারের পসরা বসে।
৩. ২০২৬ এ কবে হবে?
৪. কীভাবে যাবেন?
গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে রাজেন্দ্রপুর হয়ে বা কাপাসিয়া রোড দিয়ে নিমুরিয়া বা লোহাগাছিয়া অভিমুখী যানে চড়ে সাধুর বাজার পৌঁছানো যায়। এটি গাজীপুর শহর থেকে বেশ কিছুটা ভেতরে অবস্থিত।
মেলায় যা যা পাওয়া যায়
গাজীপুর লালন মেলায় মূলত গ্রামীণ মেলার ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র এবং লালন দর্শনের সাথে যুক্ত নানা সামগ্রীর পসরা বসে:
বাদ্যযন্ত্র ও লালনের অনুষঙ্গ: লালন ভক্তদের জন্য একতারা, দোতরা, ঢোল এবং খঞ্জনীর মতো বাদ্যযন্ত্র পাওয়া যায়। এ ছাড়া লালনের গানের সিডি ও ডিভিডি এবং লালনের বাণী লেখা বিভিন্ন স্মারক বা গেঞ্জিও মিলবে।
হস্তশিল্প ও গৃহস্থালি পণ্য: মাটির তৈরি তৈজসপত্র (হাড়ি-পাতিল, পুতুল), বাঁশ ও বেতের তৈরি ডালা, কুলা এবং কাঠের তৈরি নকশা করা আসবাবপত্র মেলায় পাওয়া যায়।
মেয়েদের প্রসাধনী ও অলঙ্কার: মেলায় গ্রামীণ নারীদের পছন্দের মাটির গয়না, কাঁচের চুড়ি, ফিতা, আলতা এবং নকশা করা ঘর সাজানোর সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
খাবার-দাবার: মেলার প্রধান আকর্ষণ থাকে নানা রকম মুখরোচক খাবার। যেমন:
গরম জিলাপি ও শনপাপড়ি।
খই, বাতাসা এবং কদমা।
আখের শরবত ও হরেক রকমের পিঠা।
বিনোদন: শিশুদের জন্য নাগরদোলা ও বিভিন্ন যান্ত্রিক রাইড এবং মাঝেমধ্যে মটরসাইকেল খেলার (মৃত্যুকূপ) আয়োজন দেখা যায়।
মেলার বিশেষত্ব
এই মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো রাতভর বাউল গানের আসর। দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা বাউল শিল্পীরা এখানে লালনের গান পরিবেশন করেন। মেলা প্রাঙ্গণে সাধু-ভক্তদের মিলনমেলা ঘটে, যেখানে তারা লালনের মানবতাবাদী দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন।
0 মন্তব্যসমূহ