Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

ভাওয়াল শ্মশানঘাট গাজীপুর

গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ির সন্নিকটে অবস্থিত ভাওয়াল শ্মশানঘাট বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটি কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং বিংশ শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত এবং রহস্যময় 'ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা'-র কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।

এই স্থানটি সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

১. ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ভাওয়াল সন্ন্যাসী

এই শ্মশানঘাটটি মূলত আলোচনায় আসে ভাওয়াল রাজবংশের মেজ কুমার রমেন্দ্রনারায়ণ রায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।

  • ১৯০৯ সালে দার্জিলিংয়ে মেজ কুমারের মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয় এবং বলা হয় যে এই শ্মশানেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

  • দীর্ঘ ১২ বছর পর এক জটাধারী সন্ন্যাসী ঢাকা ও জয়দেবপুরে আবির্ভূত হন, যিনি দাবি করেন তিনিই সেই মেজ কুমার।

  • পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা বিখ্যাত মামলার রায়ে আদালত তাকেই আসল কুমার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ইতিহাসে এটি 'ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা' নামে অমর হয়ে আছে।

২. স্থাপত্য ও পরিবেশ

  • এটি চিলাই নদীর তীরে অবস্থিত।

  • শ্মশান প্রাঙ্গণে ভাওয়াল রাজপরিবারের সদস্যদের স্মরণে বেশ কিছু স্মৃতিসৌধ বা মঠ রয়েছে।

  • এখানকার কারুকার্যময় মঠগুলো তৎকালীন রাজকীয় নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে।

৩. বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে এটি একটি সংরক্ষিত এলাকা এবং পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান। জয়দেবপুর রাজবাড়ি (যা এখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) দেখার পর দর্শনার্থীরা সাধারণত এই শ্মশানঘাটটি দেখতে যান। এটি গাজীপুর শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে খুব কাছেই অবস্থিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code