সাইয়্যিদ কুতুব (রহঃ): ফাঁসির মঞ্চে এক অপরাজেয় ঈমান
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক এবং কালজয়ী মুফাসসির শহীদ সাইয়্যিদ কুতুব (রহঃ)। মিশরের স্বৈরশাসক জামাল আবদুন নাসেরের আমলে যখন ইসলামী আন্দোলনের ওপর জুলুমের পাহাড় নেমে এসেছিল, তখন তিনি ছিলেন সত্যের এক অকুতোভয় কণ্ঠস্বর।
ফাঁসির হুকুম ও আপসহীন অবস্থান
১৯৬৬ সালে যখন তাঁর ফাঁসির হুকুম হলো, তখন শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়—যদি তিনি নাসেরের কাছে একটি সাধারণ ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তবে তাঁর দণ্ড মওকুফ হবে। কিন্তু ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই পাহাড়সম ব্যক্তিত্ব জবাব দিয়েছিলেন:
জেলের ইমাম ও কালিমার পার্থক্য
ফাঁসির পূর্ব মুহূর্তে কারাগারের সরকারি ইমামকে পাঠানো হলো তাঁকে কালিমা পড়ানোর জন্য। ইমাম সাহেব যখন কালিমার তালকিন দিতে চাইলেন, সাইয়্যিদ কুতুব (রহঃ) এক ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচন করলেন। তিনি বললেন:
"হে ইমাম! আপনি এই কালিমার বিনিময়ে সরকারি রুটি বা বেতন খাচ্ছেন, আর আমি এই কালিমার প্রকৃত হক আদায়ের জন্য আজ ফাঁসির দড়িতে ঝুলছি। আমাদের দুজনের কালিমার বুঝ কখনোই এক নয়। সুতরাং আপনার তালকিনের আমার কোনো প্রয়োজন নেই।"
মাইলফলক: যে বই কাঁপিয়ে দিয়েছিল শাসকের সিংহাসন
সাইয়্যিদ কুতুব (রহঃ)-এর বিখ্যাত গ্রন্থ 'মা’আলিম ফিত তারিক' বা 'মাইলফলক' (Milestones)। এই গ্রন্থে তিনি ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপ এবং জাহেলিয়াতের সাথে ইসলামের সংঘাতের বিষয়টি অতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। এই বইটির জনপ্রিয়তা এবং এর বিপ্লবী বার্তা দেখে নাসের সরকার এতটাই ভীত হয়েছিল যে, একে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দলিল হিসেবে গণ্য করে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এক নজরে তথ্যসমূহ:
- জন্ম: ৯ অক্টোবর, ১৯০৬।
- মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: ২৯ আগস্ট, ১৯৬৬।
- প্রধান গ্রন্থসমূহ: ফি জিলালিল কুরআন (তাফসীর), মাইলফলক, ইসলামের সামাজিক সুবিচার।
- অভিযোগ: রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র ও 'মাইলফলক' রচনার মাধ্যমে বিদ্রোহ উসকে দেওয়া।
সায়্যিদ কুতুবের কালজয়ী বই 'মাইলফলক' পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
PDF ডাউনলোড করুন (মাইলফলক)ইসলামের ইতিহাসের এই মহান বীরের জীবনী আমাদের ঈমানী শক্তি যোগায়। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ