বরমী বাজার: ঐতিজ্যের মেলা
[স্থায়ী/ধ্রুবপদ] শীতলক্ষার কোল ঘেঁষে ঐতিজ্যের মেলা, বরমী বাজারে কাটে আমার সারাবেলা। পুরনো দিনের স্মৃতি মাখা, চেনা চেনা গলি, হৃদয় জুড়ে বরমী বাজার, কত কথা বলি— ওরে ও বরমী বাজার, কত কথা বলি।
[প্রথম অন্তরা] সেই যে প্রাচীন বটগাছ সাখ্য দিয়ে রয়, শত বছরের গল্পগুলো আজো যেন কয়। মিষ্টির দোকানের মনোকাড়া ঘ্রাণ, ভোলা বড় দায়, পুরনো দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। ইঞ্জিন নৌকার ভটভটানি ঘাটটা ভরা নায়, খেয়াঘাটে গাঁয়ের মানুষ এপার আসতে চায়।
[দ্বিতীয় অন্তরা] চায়ের আড্ডায় মাঝে মধ্যে নদীর পাড়ে বসি, শীতলক্ষার শান্ত হাওয়া বড় ভালোবাসি। বানরগুলোর চলাফেরা, ঘরের চালে খেলা, দেখে সবাই বিনোদনে কাটায় সকাল-সন্ধ্যাবেলা। টাটকা মাছের গন্ধ আর কলার ছড়ি সারি-সারি, বরমীর হাটে না আসিলে মন আমার হয় ভারি।
[তৃতীয় অন্তরা] বুধবারের সেই সাপ্তাহিক হাট, লোকে লোকারণ্য, পসরা সাজিয়ে বসে সবাই, হরেক রকম পণ্য। ধান মহলে ধানের গন্ধ, চাউল কলের সুর, বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র চেনে বহুদূর। পাকা দেশী ফলের ঘ্রাণে মনটা ভরে ওঠে, চর অঞ্চলের তাজা সবজি এই হাটেতে উঠে।
[সঞ্চারী] জনতা আর পল্টন মোড়ে মানুষের কোলাহল, কাঁঠাল কিনতে দূর দেশ থেকে মানুষ আসে বেঁধে দল। দেশী হাঁস-মুরগি আর কবুতরের ডাক, ঐতিজ্যের এই বরমী বাজার মনে স্মৃতি রাখ। দেশের সেরা গরুর হাট ওই, বরমীরই যে শান, তালকাঠ মহল বিশাল বড়, ঐতিজ্যেরই নাম। তন্দুর রুটির স্বাদ মুখে লেগে মেটে মনের আশ, কামার পাড়ায় হাতুড়ির শব্দে মুখরিত চারিপাশ।
[আভোগ/শেষ অংশ] ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সবার ভাই, এমন আপন বাজার ওরে আর কোথাও নাই। গাজীপুরের শান ওরে শ্রীপুরের প্রাণ, জগত জুড়ে থাকুক তোমার বরমীর এই নাম।
শীতলক্ষার কোল ঘেঁষে ঐতিজ্যের মেলা, বরমী বাজারে কাটে আমার সারাবেলা। ওরে ও বরমী বাজার, কত কথা বলি... ওরে ও বরমী বাজার, কত কথা বলি।
0 মন্তব্যসমূহ