বেগুনী বাজার বা বাগুনি বাজার

বেগুনী বাজার বা বাগুনি বাজার বলতে সাধারণত একটি ঐতিহাসিক হাটকে বোঝানো হয় যা গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলায় অবস্থিত।

১. অবস্থান

এটি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার কড়িহাতা ইউনিয়নে মাদুলি বিলের তীরে অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি ‘বাগুনি বাজার’ নামেই বেশি পরিচিত।

২. নামকরণ ও ইতিহাস

  • পুরানো ইতিহাস: ধারণা করা হয়, প্রায় ১০০ বছর আগে এই বাজারে প্রচুর পরিমাণে বেগুনের আমদানি হতো এবং বেগুনের বড় বাজার বসত। সেই থেকেই এর নাম হয় ‘বেগুনী বাজার’ বা ‘বাগুনি বাজার’।

  • বর্তমান অবস্থা: কালের বিবর্তনে এখন সেখানে বেগুনের চাষ কমে গেছে, কিন্তু নাম রয়ে গেছে আগের মতোই। এখন এটি প্রধানত কাঁঠালের জন্য বিখ্যাত।

৩. বর্তমান বিশেষত্ব (কাঁঠালের হাট)

  • কাঁঠালের রাজ্য: বর্তমানে এটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় কাঁঠালের হাট হিসেবে পরিচিত। লাল মাটির সুস্বাদু কাঁঠাল কিনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এখানে ভিড় করেন।

  • বাজারের দিন: সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার এবং মঙ্গলবার এখানে হাট বসে।

  • পরিবেশ: বাজারের শত বছরের পুরনো লাল মাটির ঘরগুলো এখনও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

যাতায়াত করার উপায় (ঢাকা থেকে)

ঢাকা থেকে এই বাজারে যাওয়ার সবথেকে সহজ পথ হলো কাপাসিয়া হয়ে যাওয়া।

ধাপমাধ্যমসম্ভাব্য খরচ (জনপ্রতি)
ঢাকা থেকে কাপাসিয়ামহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে 'সম্রাট' বা 'এনা' পরিবহনে কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ড।১৫০ - ২০০ টাকা
কাপাসিয়া থেকে বাজারকাপাসিয়া স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি বা অটো-রিকশায় করে বেগুনী (বাগুনি) বাজার।৩০ - ৫০ টাকা

পরামর্শ ও কিছু টিপস

  • হাটের দিন: আপনি যদি কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বা বড় হাট দেখতে চান, তবে অবশ্যই শুক্রবার বা মঙ্গলবার যাবেন।

  • কেনাকাটা: এখন যেহেতু কাঁঠালের মৌসুম নয়, তাই আপনি সেখানে স্থানীয় তাজা শাকসবজি এবং গ্রামীণ বাজারের আমেজ পাবেন।

  • লাল মাটি: এই অঞ্চলের মাটি লাল এবং উঁচু-নিচু (টিলা), যা ভ্রমণের জন্য বেশ চমৎকার।

এই বাজারে যা ভালো পাওয়া যায়

  • দেশি মুরগি ও হাঁস: এখানে খাঁটি গ্রাম্য পরিবেশে পালিত দেশি মুরগি, হাঁস এবং কবুতর পাওয়া যায়। ঢাকার তুলনায় দাম কিছুটা কম এবং মান অনেক ভালো।

  • তাজা শাকসবজি: স্থানীয় কৃষকরা তাদের ক্ষেতের একদম তাজা সবজি (যেমন: শিম, মূলা, লাউ, বেগুন) নিয়ে সরাসরি হাটে বসেন। এগুলো সাধারণত রাসায়নিকমুক্ত থাকে।

  • দেশি মাছ: বাজারের কাছেই বিল ও নদী থাকায় এখানে মাঝেমধ্যে টাটকা শোল, গজার বা কৈ মাছ পাওয়া যায়।

  • শীতকালীন গুড়: এখন যেহেতু শীতকাল, আপনি সেখানে খেজুরের খাঁটি পাটালি গুড় বা ঝোলা গুড় পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

কেনাকাটার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য

বিষয়বিবরণ
সেরা সময়সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কেনাকাটা করা ভালো।
দামাদামিপাইকারি বাজারের মতো এখানেও কিছুটা দামাদামি করার সুযোগ থাকে।
পেমেন্টসব লেনদেন নগদ টাকায় (Cash) হয়, কার্ড বা অনলাইন পেমেন্ট সব জায়গায় পাওয়া যাবে না।
Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url